শরীয়তপুর , রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টঙ্গীর বস্তিতে মাদকের রমরমা কারবার, জড়িত শতাধিক নারী জাজিরায় রান্নাঘরে মজুদ রাখা ককটেল বিস্ফোরণে দুই নারী আহত জ্বালানি নিরাপত্তায় অবকাঠামো বাড়ছে, কমছে না আমদানির ঝুঁকি বান্দরবানে ৪০ নারীর আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি গাড়ির বাজারে নতুন সংযোজন ‘সুপারসেল কারবাজার’ পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন এবং দেশব্যাপী কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অবদান রাখবে অতিথি ডট কম : লায়ন সাইফুল ইসলাম সোহেল খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসক সংকটে বার্ন ইউনিট, চরম দুর্ভোগে রোগীরা বোয়ালখালীতে শীলভদ্র মহাস্থবিরের মহাপ্রয়াণে বিনয়বাঁশী শিল্পীগোষ্ঠীর শ্রদ্ধা নিবেদন শরীয়তপুরে নূর আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ আগুন, পুড়ে গেছে ১২ মোটরসাইকেল ও ১টি গাড়ি ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি কালিম উদ্দিন আহমদ মিলন

খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসক সংকটে বার্ন ইউনিট, চরম দুর্ভোগে রোগীরা

  • রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৯ ভিউ

জেলা প্রতিনিধি, খুলনা

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবার অন্যতম প্রধান ভরসাস্থল খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতাল। তবে প্রয়োজনীয় জনবল ও জায়গার সংকটে হাসপাতালটির বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। সরকারি অনুমোদন অনুযায়ী ৩৫ শয্যার ইউনিট হওয়ার কথা থাকলেও জায়গার অভাবে বর্তমানে চালু রয়েছে মাত্র ২০টি বেড।

এর সঙ্গে বড় সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে চিকিৎসক স্বল্পতা। পুরো ইউনিটে কর্মরত রয়েছেন মাত্র একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।
ফলে অগ্নিদগ্ধ ও জটিল প্লাস্টিক সার্জারির চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের পড়তে হচ্ছে চরম দুর্ভোগে। রোগীদের অভিযোগ, একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ওপর পুরো ইউনিটের চিকিৎসা সেবা নির্ভরশীল হওয়ায় চিকিৎসক ছুটিতে থাকলে কিংবা কোনো কারণে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলে সেবা ব্যবস্থা অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়ে।

খুলনা মহনগরীর গোয়ালখালী এলাকায় ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই হাসপাতালে বর্তমানে ১১টি বিভাগ চালু রয়েছে। অগ্নিদগ্ধ রোগীদের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের শারীরিক বিকৃতি, ডায়াবেটিক ক্ষত এবং জটিল অস্ত্রোপচারের চিকিৎসার জন্য খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও আশপাশের এলাকার রোগীরা এখানে আসেন।
প্রতিদিনই এই ইউনিটে চিকিৎসা নিতে আসছেন অসংখ্য রোগী।

দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাধীন কয়েকজন রোগী গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের জানান, হাসপাতালের নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্য কর্মীদের সেবার প্রতি তাদের সন্তুষ্টি রয়েছে। তবে চিকিৎসক সংকটের কারণে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা সেবা পাওয়া নিয়ে তাদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। তাদের ভাষ্য, একজন চিকিৎসকের ওপর পুরো ইউনিটের দায়িত্ব থাকায় রোগীর চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে। দ্রুত আরও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ করা না হলে রোগীদের ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে।

দীর্ঘ চার মাস ধরে চিকিৎসাধীন একাধিক রোগী বলেন, চিকিৎসকদের আন্তরিকতার ঘাটতি নেই। কিন্তু একজন মানুষের পক্ষে এতসংখ্যক রোগীর নিয়মিত চিকিৎসা, অস্ত্রোপচার ও জরুরি সেবা নিশ্চিত করা বাস্তবে অত্যন্ত কঠিন। তাদের দাবি, রোগীদের কথা বিবেচনা করে দ্রুত চিকিৎসক সংকটের সমাধান করা হোক এবং অনুমোদিত ৩৫টি শয্যাই চালু করা হোক।
হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের নার্স ইনচার্জ গনমাধ্যমকে বলেন, দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিন অগ্নিদগ্ধ রোগীরা আসেন। তবে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ওপর পুরো বিভাগ চলায় তিনি ছুটিতে গেলে সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। অবিলম্বে জরুরি ভিত্তিতে অতিরিক্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি স্বীকার করেছে।

খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালের পরিচালক ডা. শেখ আবু শাহীন গণমাধ্যমকে জানান, অনুমোদন অনুযায়ী ৩৫টি শয্যা চালু করার ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হলো জায়গা সংকট। একই সঙ্গে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে এত বড় একটি জরুরি বিভাগ পরিচালনা করাও অত্যন্ত কঠিন।

তিনি জানান, রোগীদের সেবার মান অক্ষুণ্ন রাখতে নতুন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগের পাশাপাশি পর্যাপ্ত মেডিকেল অফিসার পদায়নের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিপুলসংখ্যক মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসক ও শয্যা সংকট দ্রুত নিরসন করা এখন সময়ের দাবি। রোগীদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও জায়গা সংকটের সমাধান করে পূর্ণ সক্ষমতায় ইউনিটটি চালু করবে। এতে অগ্নিদগ্ধ ও জটিল রোগীদের চিকিৎসার জন্য দূর-দূরান্তে ছুটে যাওয়ার প্রয়োজন কমবে এবং খুলনাতেই তারা প্রয়োজনীয় বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবা পাবেন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Mr Bashar

জনপ্রিয় সংবাদ

টঙ্গীর বস্তিতে মাদকের রমরমা কারবার, জড়িত শতাধিক নারী

খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসক সংকটে বার্ন ইউনিট, চরম দুর্ভোগে রোগীরা

আপডেট সময় : ০৬:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জেলা প্রতিনিধি, খুলনা

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবার অন্যতম প্রধান ভরসাস্থল খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতাল। তবে প্রয়োজনীয় জনবল ও জায়গার সংকটে হাসপাতালটির বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। সরকারি অনুমোদন অনুযায়ী ৩৫ শয্যার ইউনিট হওয়ার কথা থাকলেও জায়গার অভাবে বর্তমানে চালু রয়েছে মাত্র ২০টি বেড।

এর সঙ্গে বড় সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে চিকিৎসক স্বল্পতা। পুরো ইউনিটে কর্মরত রয়েছেন মাত্র একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।
ফলে অগ্নিদগ্ধ ও জটিল প্লাস্টিক সার্জারির চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের পড়তে হচ্ছে চরম দুর্ভোগে। রোগীদের অভিযোগ, একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ওপর পুরো ইউনিটের চিকিৎসা সেবা নির্ভরশীল হওয়ায় চিকিৎসক ছুটিতে থাকলে কিংবা কোনো কারণে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলে সেবা ব্যবস্থা অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়ে।

খুলনা মহনগরীর গোয়ালখালী এলাকায় ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই হাসপাতালে বর্তমানে ১১টি বিভাগ চালু রয়েছে। অগ্নিদগ্ধ রোগীদের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের শারীরিক বিকৃতি, ডায়াবেটিক ক্ষত এবং জটিল অস্ত্রোপচারের চিকিৎসার জন্য খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও আশপাশের এলাকার রোগীরা এখানে আসেন।
প্রতিদিনই এই ইউনিটে চিকিৎসা নিতে আসছেন অসংখ্য রোগী।

দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাধীন কয়েকজন রোগী গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের জানান, হাসপাতালের নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্য কর্মীদের সেবার প্রতি তাদের সন্তুষ্টি রয়েছে। তবে চিকিৎসক সংকটের কারণে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা সেবা পাওয়া নিয়ে তাদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। তাদের ভাষ্য, একজন চিকিৎসকের ওপর পুরো ইউনিটের দায়িত্ব থাকায় রোগীর চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে। দ্রুত আরও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ করা না হলে রোগীদের ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে।

দীর্ঘ চার মাস ধরে চিকিৎসাধীন একাধিক রোগী বলেন, চিকিৎসকদের আন্তরিকতার ঘাটতি নেই। কিন্তু একজন মানুষের পক্ষে এতসংখ্যক রোগীর নিয়মিত চিকিৎসা, অস্ত্রোপচার ও জরুরি সেবা নিশ্চিত করা বাস্তবে অত্যন্ত কঠিন। তাদের দাবি, রোগীদের কথা বিবেচনা করে দ্রুত চিকিৎসক সংকটের সমাধান করা হোক এবং অনুমোদিত ৩৫টি শয্যাই চালু করা হোক।
হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের নার্স ইনচার্জ গনমাধ্যমকে বলেন, দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিন অগ্নিদগ্ধ রোগীরা আসেন। তবে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ওপর পুরো বিভাগ চলায় তিনি ছুটিতে গেলে সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। অবিলম্বে জরুরি ভিত্তিতে অতিরিক্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি স্বীকার করেছে।

খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালের পরিচালক ডা. শেখ আবু শাহীন গণমাধ্যমকে জানান, অনুমোদন অনুযায়ী ৩৫টি শয্যা চালু করার ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হলো জায়গা সংকট। একই সঙ্গে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে এত বড় একটি জরুরি বিভাগ পরিচালনা করাও অত্যন্ত কঠিন।

তিনি জানান, রোগীদের সেবার মান অক্ষুণ্ন রাখতে নতুন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগের পাশাপাশি পর্যাপ্ত মেডিকেল অফিসার পদায়নের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিপুলসংখ্যক মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসক ও শয্যা সংকট দ্রুত নিরসন করা এখন সময়ের দাবি। রোগীদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও জায়গা সংকটের সমাধান করে পূর্ণ সক্ষমতায় ইউনিটটি চালু করবে। এতে অগ্নিদগ্ধ ও জটিল রোগীদের চিকিৎসার জন্য দূর-দূরান্তে ছুটে যাওয়ার প্রয়োজন কমবে এবং খুলনাতেই তারা প্রয়োজনীয় বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবা পাবেন।